মাসিক বিরতি বলতে মহিলা শ্রমিকের মাসিকের সময় অতিরিক্ত কাজ করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি রোধ করতে এবং মাতৃসুরক্ষার জন্য মাসে ১ দিনের ছুটি প্রদানকে বোঝায়। মাসিক বিরতি ৫ জন বা তার বেশি কর্মচারী বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করা যেকোনো মহিলা শ্রমিক ব্যবহার করতে পারেন, তাই প্রশিক্ষণকারী কর্মী, চুক্তিভিত্তিক, অস্থায়ী ইত্যাদি, অর্থাৎ স্থায়ী না হলেও চাকরির ধরন নির্বিশেষে মাসে ১ দিনের মাসিক বিরতি ব্যবহার করা যায়। এছাড়া মাসিক বিরতি প্রকৃত মাসিকের শারীরিক লক্ষণ অনুসারে দিতে হবে, তাই চাকরির মেয়াদ বা উপস্থিতির অবস্থা নির্বিশেষে মহিলা শ্রমিক মাসিক বিরতির দাবি করলে নিয়োগকর্তা তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না।
২০০৪ সালের ১ জুলাই থেকে স্কেল ও ধরন অনুসারে ধাপে ধাপে প্রযোজ্য সংশোধিত শ্রমমানবিধি অনুসারে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার পদ্ধতি প্রবর্তিত হওয়ায় মাসিক বিরতির ব্যবস্থাতেও কিছু পরিবর্তন হয়েছে, ‘মহিলা শ্রমিককে মাসে ১ দিনের বেতনসহ মাসিক বিরতি প্রদান’ থেকে ‘মহিলা শ্রমিক মাসিক বিরতির দাবি করলে অবেতনীয় প্রদান’ করলেই চলবে এমন পরিবর্তন হয়েছে। সংশোধিত শ্রমমানবিধি অনুসারে চাকরির নিয়মাবলী বা সমষ্টিগত চুক্তিতে বেতনসহ মাসিক বিরতি নির্ধারিত না থাকলে মহিলা শ্রমিক মাসিক বিরতি ব্যবহার করলে মাসিক বেতন থেকে ১ দিনের সাধারণ মজুরি কাটা হবে, যার ফলে কম মজুরিতে অনিয়মিত চাকরি করা অনেক মহিলা শ্রমিকের জন্য মাসিক বিরতি ব্যবহার করা বাস্তবে কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে গর্ভাবস্থায় ইত্যাদি মাসিকের শারীরিক লক্ষণহীন মহিলা শ্রমিককে মাসিক বিরতি দিতে হবে কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে, সাধারণত গর্ভধারণ, বার্ধক্যজনিত মাসিকের লক্ষণহীনতার ক্ষেত্রে মাসিক বিরতি প্রদানের বাধ্যবাধকতা নেই বলে ব্যাখ্যা করা হয়, কিন্তু যদি নিয়োগকর্তা মহিলা শ্রমিকের মাসিকের লক্ষণ নেই বলে মাসিক বিরতি না দেন তাহলে মাসিকের লক্ষণ নেই বলে নিয়োগকর্তাকে নিজে প্রমাণ করতে হবে। মহিলা শ্রমিক মাসিক বিরতির দাবি করলেও না দিলে প্রতিষ্ঠানের মালিক ৫০ লক্ষ ওন বা তার কম জরিমানায় দণ্ডিত হবেন। *সংশোধনপূর্ব শ্রমবিধি ৭১ ধারা: নিয়োগকর্তাকে মহিলা শ্রমিককে মাসে ১ দিনের বেতনসহ মাসিক বিরতি দিতে হবে।
*সংশোধনোত্তর শ্রমবিধি ৭১ ধারা: নিয়োগকর্তাকে মহিলা শ্রমিক দাবি করলে মাসে ১ দিনের মাসিক বিরতি দিতে হবে।